দুই মাসের বেশি সময় পর মাঠে ফিরলেন নেইমার

দুই মাসের বেশি সময় পর চোট ও অস্ত্রোপচারের ধাক্কা কাটিয়ে মাঠে ফিরলেন নেইমার। তাঁর ফেরার ম্যাচেই পাউলিস্টা চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে ভেলো ক্লাবকে ৬–০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সান্তোস। গোল না পেলেও একটি অ্যাসিস্ট করে বড় জয়ে অবদান রেখেছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

এই জয়ে প্রতিযোগিতার শেষ আট নিশ্চিত করেছে সান্তোস। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নভোরিজোন্তিনো।

ভেলোর বিপক্ষে নেইমার নামেন দ্বিতীয়ার্ধে। মাঠে নেমেই আক্রমণে প্রাণ ফেরান তিনি। একাধিক সুযোগ তৈরি করেন, দুবার নিজেও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান। তবে তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে প্রতিপক্ষের কয়েকটি কঠিন ফাউল, যা মুহূর্তের জন্য উদ্বেগও তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮১ মিনিটে তাঁর পাস থেকেই গোল করেন গ্যাব্রিয়েল বারবোসা।

চোটের কারণে চলতি মৌসুমের শুরু থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। দীর্ঘ পুনর্বাসন পর্ব পেরিয়ে এই ম্যাচেই মৌসুমে প্রথমবার খেললেন তিনি। সামনে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি—ফেরাটা তাই ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। পরের ম্যাচগুলোতে নিজেকে আরও প্রমাণ করে বিশ্বকাপ দলে জায়গার দাবিটা জোরালো করতে চাইবেন সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।

নেইমারের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ



গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ব্রাজিলিয়ান শীর্ষ লিগে অবমননের শঙ্কায় পড়েছিল সান্তোস। দলকে বাঁচাতে শেষ তিন ম্যাচে চোট নিয়েই খেলেন নেইমার। তিন ম্যাচেই জিতেছিল সান্তোস। প্রথম ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট, দ্বিতীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিক, আর শেষ ম্যাচে গোল না পেলেও ৯০ মিনিটজুড়ে ভালো খেলে দলকে বড় জয় এনে দেন তিনি। সেই জয়েই শীর্ষ লিগে টিকে থাকা নিশ্চিত হয় সান্তোসের।

তবে সেই লড়াইয়ের মূল্যও দিতে হয় তাঁকে। এরপরই বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তখনই প্রশ্ন ওঠে, ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁকে রাখবেন কি না। সেই অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি না কাটলেও মাঠে ফেরা সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর।

ম্যাচ শেষে নেইমারের ফেরা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন সান্তোস কোচ হুয়ান পাবলো ভোজভোডা। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সবাইকে নেইমারের প্রয়োজন, সান্তোস হোক বা জাতীয় দল। আনচেলত্তি খুশি হবেন, যদি সে ভালো করে। সে বিশ্বমানের খেলোয়াড়। তার এখনো সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে। আমি অনুশীলনে প্রতিটি ছোট মাঠের খেলায় সেটা দেখি। সে মাঠে থাকতে চায়, জিততে চায়। এটা অনুপ্রেরণামূলক।’

নেইমারের ফিটনেস নিয়ে ভোজভোডা যোগ করেন, ‘নেইমার ভালোভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমি তাকে অফিসিয়াল ম্যাচে দেখতে চেয়েছিলাম। তাই দ্বিতীয়ার্ধে তাকে প্রায় ৫০ মিনিট খেলানো হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *